সাম্প্রতিক বৈঠকের থাকাকালিন ও তাকে দিয়ে ফাইলে সই করাতে ছুটে আসেন অধস্তন অফিসাররা। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদমর্যাদার এই অফিসার একাধারে স্বরাষ্ট্র সচিব এবং উত্তর প্রদেশ এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট অথরিটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার। আর এই কারণে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পদস্থ এই আমলা কে চোখে হারান। প্রতিদিন সকাল আটটা সাড়ে আটটার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কালিদাস মর্গের সরকারি বাড়িতে পৌঁছে যান অবনীশ অবস্থী। রাতে বাড়ি ফিরে ডিনার সেরে নটা সাড়ে নটা নাগাদ আবার আসেন মুখ্যমন্ত্রীর আবাসে। এছাড়াও ফোনালাপ তো আছেই।

আইন-শৃঙ্খলা তার সাথে রাস্তা নির্মাণের কাজের কথা মাথায় রেখে যোগিতার বিশ্বস্ত এই অফিসারের দায়িত্ব দিয়েছেন। কারণ, এক্সপ্রেসওয়ের জালে গোটা উত্তর প্রদেশ করে ফেলার লম্বা কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তিনি। আনুমানিক এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।ফলে কাজের বরাত এবং মালপত্র সরবরাহ নিয়ে মাফিয়া রাজ মাথা ছাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যোগীর ইচ্ছায় অবস্থী গ্যাংস্টার প্রিভেনশন অ্যাক্ট এ মাফিয়াদের ১১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। যাতে রাস্তার কাজে তারা হাত না বাড়ায়। তাই স্বরাষ্ট্র সচিবকে এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির প্রকল্পে সি ই ও করেছেন যোগী। যোগী বলেছেন,'দুর্নীতি আর দাদাগিরি বন্ধে দল নির্বিশেষে আমি জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি'।

আরো পড়ুন:Twitter বন্ধ করলো ২৫০ টি কৃষকের একাউন্ট
সে যাই হোক, নির্মীয়মান পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়ে, গোরখপুর লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ে তো আছেই, অচিরেই কাজ শুরু হবে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডিফেন্স করিডোরের। এর মধ্যে শেষটি ভারত সরকারের প্রকল্প।এবার পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেস প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ যুদ্ধবিমানের রানওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে রাফাল বিমান নাববে। যোগী এক্সপ্রেস বইয়ের সঙ্গে যুদ্ধে চাইছেন তার 'ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট' প্রজেক্ট কে। তাঁর কথায়,এই প্রকল্পে প্রত্যেক জেলায় একটি করে শিল্পের পুনরুজ্জীবনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এক্সপ্রেসো এর ধারে হবে সেগুলির ক্লাস্টার। ঘরের সবার হাতে কাজ মিলবে। মুখ্য মন্ত্রী আরো বলেন, এক্সপ্রেস এর মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক জাগরণ হবে। তার কথায়, 'উত্তরপ্রদেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন এতোকাল হয়নি'।


কথাটা একদম ঝেড়ে ফেলার মত নয়।বিশেষ করে যে রাজ্যটি বারবার জাতীয় রাজনৈতিক নির্ধারক এবং যেখান থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। সেই রাজ্যের চেহারায় উন্নয়নের ছাপ প্রত্যাশার অনেক নিচে।এই পরিস্থিতিতে যোগী নিজেকে আধুনিক উত্তরপ্রদেশের রূপকার হিসেবে তুলে ধরতে তিন অঙ্কের নিজের ব্রান্ডিং করছেন, এক হিন্দুত্ব, দুই গরিবের মাসিহাঁ এবং তিন পরিক্রমা শালী ভাবমূর্তি।

চীন পাকিস্তানের প্রশ্নেমধুরিমা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পাশাপাশি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দ্রুত পৌঁছে যায়। লখনৌতি বসেও দিল্লির ক্ষমতার অন্দরে যে তার হাত বেশি লম্বা,তা বুঝা গেছে নিজের এলাকা ঘুরে ইন্টার কলেজ কম্পিটিশনের মত অনুষ্ঠানের চিপ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত কে হাজির করানোয়। ধর্মান্তরণ বিরোধী আইনকেও যোগীর ভারত বিজয়ের প্রস্তুতি বলে জানাচ্ছে তার ঘনিষ্ঠ লোকজনেরা। হিন্দুত্বের বিপণন এবং ধর্মীয় মেরুকরণ এ একদিন গোটা দেশে এই আইনটি হাতিয়ার করবে যোগী। তার দাবি, 'অনেক রাজ্যেই এখন আমার দেখানো পথে এমন আইন করার কথা ভাবছে।'

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন